▼

Friday, 11 September 2026

বাহারছড়ার একমাত্র মগঝিরি ড্রেন দখলের চেষ্টা! শতশত মানুষের বসতি ও কক্সবাজার শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে শঙ্কা

 




নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার 
কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও একমাত্র মগঝিরি ড্রেন দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে ড্রেনটির জায়গা দখলের জন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, বাহারছড়া এলাকার শতশত মানুষের নিরাপদ বসতি এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে মগঝিরি ড্রেনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ড্রেনটি সংকুচিত বা দখল হয়ে গেলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে আশপাশের বসতবাড়িগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ড্রেনটি রক্ষার পরিবর্তে সেটি দখলের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত দখলচেষ্টা বন্ধ করে ড্রেনটির সীমানা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি ড্রেন দখল শুধু একটি জায়গা দখলের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শতশত মানুষের বসবাসের নিরাপত্তা এবং পুরো এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বার্থ। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি নজরদারি ও হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, মগঝিরি ড্রেনটি সরেজমিন পরিদর্শন করে দখলচেষ্টার সত্যতা যাচাই, সরকারি/জনস্বার্থের জায়গা চিহ্নিতকরণ এবং অবৈধ স্থাপনা বা দখলচেষ্টা থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করতে হবে।
অন্যথায় ভবিষ্যতে ড্রেনের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়ে বাহারছড়াসহ আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

Monday, 7 September 2026

মাতামুহুরী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, দুটি স্যালু মেশিন জব্দ -



মাতামুহুরী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, দুই স্যালু মেশিন জব্দ


নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার


কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা রবি টাওয়ার সংলগ্ন মাতামুহুরী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি স্যালু মেশিন জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের পাইপ নষ্ট করে দেওয়া হয়।


সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মাতামুহুরী নদীর মরংঘোনা রবি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি স্যালু মেশিন জব্দ করা হয়। এ সময় বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ পাইপও নষ্ট করে দেওয়া হয়।


অভিযানে পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার মো. আবুল মনসুর, চকরিয়া থানা পুলিশের সদস্যসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা ও আশপাশের কৃষিজমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।


স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা করে মেশিন ও পাইপ জব্দ বা নষ্ট করলেই হবে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি জোরদার করতে হবে।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


Sunday, 6 September 2026

চকরিয়ায় ভিমরুলের ভয়াবহ আক্রমণ, প্রাণ গেল ৪ বছরের শিশুর; আহত ২

 

চকরিয়ায় ভিমরুলের হামলায় ৪ বছরের শিশু নিহত, আহত আরও ২
নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার  কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভিমরুলের ভয়াবহ আক্রমণে নুরুল হক (৪) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর শিশু চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহত নুরুল হক উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের শান্তিনগর ২ নম্বর ওয়ার্ডের শালবাগান এলাকার ছিদ্দিক আহমেদের ছেলে।
স্থানীয় ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেলে শিশুদের ওপর হঠাৎ ভিমরুলের দল আক্রমণ চালায়। এতে নুরুল হকসহ তিন শিশু গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল হকের মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে ফাতেমা (১১) গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই এলাকার রাসেলের মেয়ে তাসমিন (৩) চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ ভিমরুলের ঝাঁক শিশুদের ওপর হামলে পড়ায় তারা গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বসতবাড়ি ও জনবসতির আশপাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ভিমরুলের চাক দ্রুত অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তায় এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।