Thursday, 6 August 2026

ঈদগাঁও সমবায় কার্যালয়ে 'সিন্ডিকেটের’ দৌরাত্ম্য?সেবা নিয়ে হয়রানি নথিপত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন;

 



নুরুল ইসলাম সুমন, কক্স

নুরুল ইসলাম সুমন 

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় কার্যালয় ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। সমবায় সমিতির নিবন্ধন ও নবায়ন, অডিট, সরকারি সুবিধা প্রদান এবং দাপ্তরিক সেবা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের ঘিরে কার্যালয়কেন্দ্রিক একটি কথিত দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সমবায় কার্যালয়ে কোনো কাজ নিয়ে গেলে অনেকেই সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে না গিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কাজ করানোর পরামর্শ পান। এতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং বাড়তি অর্থ গুনতে হয় কি না—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।


দীর্ঘদিনের কার্যক্রমে প্রশ্ন ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। কোন সমিতি কখন নিবন্ধিত হয়েছে, কারা নবায়ন পেয়েছে, কোন সমিতির অডিট হয়েছে এবং অডিটে কী কী আপত্তি উঠেছে—এসব তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য কতটা উন্মুক্ত, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

এ ছাড়া সরকারি কোনো প্রকল্প, ঋণ, অনুদান বা সুযোগ-সুবিধা বিতরণে কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা তা পেয়েছেন কি না—সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।


সরেজমিনে উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন কাজে লোকজনের আনাগোনা রয়েছে। কার্যালয়ের আশপাশে কয়েকজন ব্যক্তির তৎপরতাও চোখে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশ তাদের ‘দালাল সিন্ডিকেটের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করলেও, কারা প্রকৃতপক্ষে দালাল বা কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত—তা নথি ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রশ্ন উঠেছে—কার্যালয়ের ভেতর-বাইরে নিয়মিতভাবে যদি কোনো মধ্যস্থতাকারী সক্রিয় থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে?


ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় অফিসার দিদারুল ইসলামের কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেকে লেগে আছে।”


জেলা সমবায় কার্যালয়ের নজরদারি কতটা?

কক্সবাজার জেলা সমবায় অফিসার মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের কার্যক্রম জেলা কার্যালয় থেকে তদারকি করা হয়। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি নিয়মিত তদারকি হয়ে থাকে, তাহলে কার্যালয়কেন্দ্রিক দালালচক্রের অভিযোগ বারবার কেন উঠছে? অভিযোগগুলোর বিষয়ে জেলা কার্যালয় কখনো কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সেটিও জনসমক্ষে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।


স্থানীয় আরিফসহ কয়েকজনের দাবি, সাধারণ মানুষ যাতে কোনো সরকারি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি বা অনৈতিক অর্থ লেনদেনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে উপজেলা ও জেলা সমবায় কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।


সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে শুধু মৌখিক বক্তব্য নয়, গত কয়েক বছরের নিবন্ধন ও নবায়ন নথি, অডিট রিপোর্ট, অডিট আপত্তি, সরকারি বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব, প্রকল্পের তালিকা, সুবিধাভোগীদের তালিকা এবং অভিযোগ রেজিস্টার পরীক্ষা করা জরুরি।

একই সঙ্গে কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী মধ্যস্থতাকারীদের পরিচয় ও তাদের কার্যক্রমও যাচাই করা প্রয়োজন।


অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে তা প্রমাণসহ পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

No comments:

Post a Comment

বাহারছড়ার একমাত্র মগঝিরি ড্রেন দখলের চেষ্টা! শতশত মানুষের বসতি ও কক্সবাজার শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে শঙ্কা

  নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার  কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও একমাত্র মগঝিরি ড্রেন দখলের চেষ্টা চলছে ...