Friday, 11 September 2026

বাহারছড়ার একমাত্র মগঝিরি ড্রেন দখলের চেষ্টা! শতশত মানুষের বসতি ও কক্সবাজার শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে শঙ্কা

 




নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার 
কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও একমাত্র মগঝিরি ড্রেন দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে ড্রেনটির জায়গা দখলের জন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, বাহারছড়া এলাকার শতশত মানুষের নিরাপদ বসতি এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে মগঝিরি ড্রেনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ড্রেনটি সংকুচিত বা দখল হয়ে গেলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে আশপাশের বসতবাড়িগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ড্রেনটি রক্ষার পরিবর্তে সেটি দখলের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত দখলচেষ্টা বন্ধ করে ড্রেনটির সীমানা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি ড্রেন দখল শুধু একটি জায়গা দখলের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শতশত মানুষের বসবাসের নিরাপত্তা এবং পুরো এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বার্থ। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি নজরদারি ও হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, মগঝিরি ড্রেনটি সরেজমিন পরিদর্শন করে দখলচেষ্টার সত্যতা যাচাই, সরকারি/জনস্বার্থের জায়গা চিহ্নিতকরণ এবং অবৈধ স্থাপনা বা দখলচেষ্টা থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করতে হবে।
অন্যথায় ভবিষ্যতে ড্রেনের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়ে বাহারছড়াসহ আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

Monday, 7 September 2026

মাতামুহুরী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, দুটি স্যালু মেশিন জব্দ -



মাতামুহুরী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, দুই স্যালু মেশিন জব্দ


নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার


কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা রবি টাওয়ার সংলগ্ন মাতামুহুরী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি স্যালু মেশিন জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের পাইপ নষ্ট করে দেওয়া হয়।


সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মাতামুহুরী নদীর মরংঘোনা রবি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি স্যালু মেশিন জব্দ করা হয়। এ সময় বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ পাইপও নষ্ট করে দেওয়া হয়।


অভিযানে পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার মো. আবুল মনসুর, চকরিয়া থানা পুলিশের সদস্যসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা ও আশপাশের কৃষিজমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।


স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা করে মেশিন ও পাইপ জব্দ বা নষ্ট করলেই হবে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি জোরদার করতে হবে।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


Sunday, 6 September 2026

চকরিয়ায় ভিমরুলের ভয়াবহ আক্রমণ, প্রাণ গেল ৪ বছরের শিশুর; আহত ২

 

চকরিয়ায় ভিমরুলের হামলায় ৪ বছরের শিশু নিহত, আহত আরও ২
নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার  কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভিমরুলের ভয়াবহ আক্রমণে নুরুল হক (৪) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর শিশু চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহত নুরুল হক উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের শান্তিনগর ২ নম্বর ওয়ার্ডের শালবাগান এলাকার ছিদ্দিক আহমেদের ছেলে।
স্থানীয় ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেলে শিশুদের ওপর হঠাৎ ভিমরুলের দল আক্রমণ চালায়। এতে নুরুল হকসহ তিন শিশু গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল হকের মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে ফাতেমা (১১) গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই এলাকার রাসেলের মেয়ে তাসমিন (৩) চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ ভিমরুলের ঝাঁক শিশুদের ওপর হামলে পড়ায় তারা গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বসতবাড়ি ও জনবসতির আশপাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ভিমরুলের চাক দ্রুত অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তায় এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Thursday, 27 August 2026

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ: জেলা প্রশাসকসহ ৪ জনকে আদালত অবমাননার নোটিশ

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ: জেলা প্রশাসকসহ ৪ জনকে আদালত অবমাননার নোটিশ


নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার 





কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ির ওপর সড়ক নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগে আদালতের নির্দেশনা অমান্যের দায়ে জেলা প্রশাসকসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।


নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক রাশিদুর রহমান, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আদনান চৌধুরী এবং জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি তাকাহাসকি জানকো।


জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য নষ্ট করার অভিযোগে জনস্বার্থে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ওই রিটের শুনানি শেষে ২০১১ সালে আদালত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ এবং বালিয়াড়ির মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ দেন।


এর আগে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনাও আদালতের আদেশে দুই দফায় অপসারণ করা হয়।


তবে আদালতের ওই নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে ও জাইকার অর্থায়নে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ির ওপর দিয়ে নতুন করে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে—এমন সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ছে বলে দাবি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।


নোটিশে বলা হয়েছে, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং অতীতে আদালতের আদেশে বালিয়াড়ির স্থাপনা অপসারণের নজির থাকার পরও সেখানে পুনরায় সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা আদালতের আদেশের লঙ্ঘন এবং আদালত অবমাননার শামিল।


নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বালিয়াড়ির ওপর চলমান সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানিয়েছেন, নোটিশটি সংশ্লিষ্টদের ই-মেইল ও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।


কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বালিয়াড়ি ও পরিবেশ রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Friday, 14 August 2026

আদালত প্রাঙ্গণে গুলিবর্ষণ: যুবদল নেতা লিয়াকত আলীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ-

 







আদালত প্রাঙ্গণে গুলিবর্ষণ: যুবদল নেতা লিয়াকত আলীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ


নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার 

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঝিলংজা ইউনিয়নের বিএনপি সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী ওরফে লিয়াকত মেম্বারকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায়’ ফাঁসানোর অভিযোগ করেছেন তার স্বজন ও সমর্থকেরা। তাদের দাবি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন না করেই রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে লিয়াকত আলীকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে,কিন্তু ঘটনার বিডিও ফুটেজে তার কোনো সম্পৃক্ততা দেখা যায়নি।


গত ২৪ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেছনের গেটসংলগ্ন সড়কে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় মইন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ঘটনার পর আদালত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।


ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজন জিয়াউল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন বলে মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়। পরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তলসহ দুজনকে আটক করার কথা জানায় পুলিশ।


ঘটনার পর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলায় তদন্তের পর বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


মামলায় চার্জশিটভুক্ত হওয়ার পর বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন লিয়াকত আলী। আদালতের বিচারক ইরফানুল হক চৌধুরী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


লিয়াকত আলীর আইনজীবী গোলাম ফারুক খান কায়সার বলেন, আদালত এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় অস্ত্র মামলায় চার্জশিটভুক্ত হওয়ার পর লিয়াকত মেম্বার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।



কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ২৪ মে গুলির শব্দ শুনে কোর্ট পুলিশ, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের গোয়েন্দা শাখা, বিশেষ শাখা ও সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তাৎক্ষণিক অভিযানে দুজনকে আটক করা হয় এবং একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধারের কথা জানানো হয়।


ওসি জানান, ঘটনার পর লিয়াকত মেম্বারকে গুলি করার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছিল। পাশাপাশি পুলিশ বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করে। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিক তদন্ত শেষে লিয়াকত আলীর সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে চার্জশিটে তাকে আসামি করেন।


এদিকে,ঘটনার পর বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে এমন কথাও প্রচার হয়েছিল যে, একটি হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসা কোনো ব্যক্তিকে আদালত এলাকা থেকে তুলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আবার কেউ কেউ দাবি করেন, প্রশাসনিক সহানুভূতি বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা সাজানো হয়ে থাকতে পারে।

Friday, 7 August 2026

লামা-চকরিয়া সড়কে মোটরসাইকেল ও চান্দের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২

 লামা-চকরিয়া সড়কে মোটরসাইকেল ও চান্দের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২











জিয়াউর রহমান বাবর 

লামা-চকরিয়া সড়কের কুমারী গাজী কোম্পানির অফিসের সামনে মোটরসাইকেল ও চান্দের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয়রা জানান, লামা-চকরিয়া সড়কের কুমারী এলাকায় গাজী কোম্পানির অফিসের সামনে একটি মোটরসাইকেল ও চান্দের গাড়ির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুইজন গুরুতর আহত হন।


দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন বলে জানা গেছে।

Thursday, 6 August 2026

ঈদগাঁও সমবায় কার্যালয়ে 'সিন্ডিকেটের’ দৌরাত্ম্য?সেবা নিয়ে হয়রানি নথিপত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন;

 



নুরুল ইসলাম সুমন, কক্স

নুরুল ইসলাম সুমন 

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় কার্যালয় ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। সমবায় সমিতির নিবন্ধন ও নবায়ন, অডিট, সরকারি সুবিধা প্রদান এবং দাপ্তরিক সেবা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের ঘিরে কার্যালয়কেন্দ্রিক একটি কথিত দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সমবায় কার্যালয়ে কোনো কাজ নিয়ে গেলে অনেকেই সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে না গিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কাজ করানোর পরামর্শ পান। এতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং বাড়তি অর্থ গুনতে হয় কি না—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।


দীর্ঘদিনের কার্যক্রমে প্রশ্ন ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। কোন সমিতি কখন নিবন্ধিত হয়েছে, কারা নবায়ন পেয়েছে, কোন সমিতির অডিট হয়েছে এবং অডিটে কী কী আপত্তি উঠেছে—এসব তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য কতটা উন্মুক্ত, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

এ ছাড়া সরকারি কোনো প্রকল্প, ঋণ, অনুদান বা সুযোগ-সুবিধা বিতরণে কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা তা পেয়েছেন কি না—সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।


সরেজমিনে উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন কাজে লোকজনের আনাগোনা রয়েছে। কার্যালয়ের আশপাশে কয়েকজন ব্যক্তির তৎপরতাও চোখে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশ তাদের ‘দালাল সিন্ডিকেটের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করলেও, কারা প্রকৃতপক্ষে দালাল বা কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত—তা নথি ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রশ্ন উঠেছে—কার্যালয়ের ভেতর-বাইরে নিয়মিতভাবে যদি কোনো মধ্যস্থতাকারী সক্রিয় থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে?


ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় অফিসার দিদারুল ইসলামের কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেকে লেগে আছে।”


জেলা সমবায় কার্যালয়ের নজরদারি কতটা?

কক্সবাজার জেলা সমবায় অফিসার মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের কার্যক্রম জেলা কার্যালয় থেকে তদারকি করা হয়। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি নিয়মিত তদারকি হয়ে থাকে, তাহলে কার্যালয়কেন্দ্রিক দালালচক্রের অভিযোগ বারবার কেন উঠছে? অভিযোগগুলোর বিষয়ে জেলা কার্যালয় কখনো কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সেটিও জনসমক্ষে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।


স্থানীয় আরিফসহ কয়েকজনের দাবি, সাধারণ মানুষ যাতে কোনো সরকারি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি বা অনৈতিক অর্থ লেনদেনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে উপজেলা ও জেলা সমবায় কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।


সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে শুধু মৌখিক বক্তব্য নয়, গত কয়েক বছরের নিবন্ধন ও নবায়ন নথি, অডিট রিপোর্ট, অডিট আপত্তি, সরকারি বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব, প্রকল্পের তালিকা, সুবিধাভোগীদের তালিকা এবং অভিযোগ রেজিস্টার পরীক্ষা করা জরুরি।

একই সঙ্গে কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী মধ্যস্থতাকারীদের পরিচয় ও তাদের কার্যক্রমও যাচাই করা প্রয়োজন।


অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে তা প্রমাণসহ পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাহারছড়ার একমাত্র মগঝিরি ড্রেন দখলের চেষ্টা! শতশত মানুষের বসতি ও কক্সবাজার শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে শঙ্কা

  নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার  কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও একমাত্র মগঝিরি ড্রেন দখলের চেষ্টা চলছে ...